প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) থাকাকালীন সময়ে নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপের দ্বন্দ্ব নিয়ে কম শিরোনাম হয়নি। তবে এই দ্বন্দ্বটা লিওনেল মেসি পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানান এই ব্রাজিলিয়ান। মূলত নেইমারের সঙ্গে মেসির ভালো সম্পর্কের কারণে ‘ঈর্ষান্বিত’ হয়ে পড়েছিলেন এমবাপে!
বৃহস্পতিবার ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিওর একটি পডকাস্টে কথা বলার সময় পিএসজিতে থাকাকালীন সময়ের অনেক বিষয় তুলে ধরেন নেইমার। ফরাসি ক্লাবতে তিন তারকার একসঙ্গে সফল হতে না পারার পেছনে মূল কারণ ইগোর সংঘাত ছিল বলে জানান ৩২ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান।
শুরুর দিকে এমবাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কিছু সমস্যা হয়েছিল, আমরা একটু ঝগড়াও করেছি। তবে সেটা শুরুতে। যখন সে যোগ দেয়, তখন সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি সবসময় তাকে বলতাম, তার সঙ্গে মজা করতাম যে, সে একদিন সেরাদের একজন হবে। আমি সবসময় তাকে সাহায্য করতাম, তার সঙ্গে কথা বলতাম।’
সে আমার বাড়িতে আসত, আমরা একসঙ্গে ডিনারও করতাম। আমরা কয়েক বছর ভালো সময় কাটিয়েছি, কিন্তু এরপর, মেসি আসার পর, আমি মনে করি সে একটু ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল সে আমাকে কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইত না, এবং এরপর থেকেই ঝগড়া শুরু হয়, তার আচরণে পরিবর্তন আসে,’ বলেন নেইমার।
তবে ২০২১ সালে মেসি বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর এমবাপের আচরণ বদলে যায় বলে জানান এমবাপে। বার্সেলোনায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত একত্রে সফল সময় কাটানোর কারণে নেইমারের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক আগেই তৈরি ছিল।
পিএসজিতে তিন সুপারস্টারের একত্রে সফল না হওয়ার পেছনে মূল কারণ দলীয় সমন্বয়ের অভাব ছিল জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘তোমাকে বুঝতে হবে, তুমি একা খেলতে পারবে না। তোমাকে অন্যদেরও পাশে রাখতে হবে: ‘আমি সেরা, ঠিক আছে’, কিন্তু কে তোমাকে বল দেবে? তোমার পাশে ভালো খেলোয়াড় থাকতে হবে, যারা বল দিতে পারবে। এটা সবার ইগোর বিষয় ছিল…তাই এটা সফল হতে পারেনি। আজকের দিনে, কেউ যদি না দৌড়ায়, কেউ যদি একে অপরকে সাহায্য না করে, তাহলে জয় অসম্ভব।’
২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন নেইমার। ইনজুরিতে গত ১৬ মাসে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। সাম্প্রতিক গুঞ্জন অনুযায়ী, তিনি ব্রাজিল বা মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন। যদিও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলার ক্ষেত্রে দ্বিধা বোধ করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান।