নারায়ণগঞ্জ আপডেট : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর নামদারি কথিত যুবদল নেতা সফল ভূইয়ার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। সফর ভূইয়া ২৬নং ওয়ার্ডের রামনগর এলাকার করিম মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মাসুম আহমেদ ও সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনুর এর ঘনিষ্ট সহচর এবং মাসুম আহমেদ এর সকল অপকর্মের সহযোগীও ছিলেন কথিত যুবদল নেতা সফর ভূইয়া। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পরিচয়ে আওয়ামীলীগের দখলে থাকা সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এছাড়াও বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রশিদের ভাই আনোয়ার হোসেন আনুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের বাহিনী দিয়ে একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ২৬ নং ওয়ার্ড সোনাচড়া এলাকার মৃত মো. আলী কিছু দিন পূর্বে তালতলা রি-রোলিং মিলে প্লেট পড়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। পরে মালিক পক্ষে কাছ এলাকাবাসী ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে দেন। কিন্তু সফর ভূইয়া টাকা গুলো খাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। এলাকাবাসীর জন্য সে টাকা গুলো নিতে পারেনি।
গত ২৮ মার্চ ঢাকেশ^রী সোনাচড়াবাদ এলাকায় সিলেকশন বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কথিত যুবদল নেতা সফর ভূইয়া। সেই দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আল আমিন, সজিব ও জিসানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এর পূর্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সফর ভূইয়ার নেতৃত্বে এলাকায় মহড়া দেন, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় সাদা পায়জামা পড়ে খালি গায়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে হাটছে এবং তার বাহিনীরও লোকজনের হাতেও দেখা গেছে দেশীয় অস্ত্র।
স্থানীয়রা বলছেন, সফর ভূইয়া আওয়ামীলীগ আনোয়ার হোসেন আনু ও মাসুম আহমেদের সঙ্গে মিলে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি সহ নানা কাছে সহযোগী হয়ে কাজ কাজ করছেন। তাদের অত্যাচারে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পেতনা। প্রতিনিয়তই সোনাচড় ও তালতলা এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতিকালে যেসব দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হতো তেমনই অস্ত্র সেদিন সফর ভূইয়া নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে তা-ব চালিয়েছে। ৫ আগস্টের আগে ছিল আওয়ামীলীগের দোসর হিসেবে কিন্তু তিনি এখন যুবদলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল জানান, কেন্দ্রীয় যুবদল ৫১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর যুবদল কমিটি অনুমোদন দিয়েছে এর বাহিরে কোন কমিটি নেই। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার আমলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কমিটি থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি বিলপ্ত করে দিয়েছে। বর্তমানে ৫১ সদস্যের বাহিরে যুবদলের কোন কমিটি নেই। যারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট তারা যুবদলের নাম ভেঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নান অপকর্ম করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে লিপ্ত রয়েছে।